Category: সারাদেশ

  • ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ

    ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: 

    রাজউক কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন জোনে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে রাজউকের জোন ৩/২–এ দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন জোন ৪/২–এ। জোন স্থানান্তর হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ধারা থামেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর কল্যাণপুর লেকপাড় এলাকার মিনার প্রোপার্টিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আবুল কালাম আজাদ তিন লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন ইয়াছিন নামের একজন ব্যক্তি। অভিযোগকারীরা জানান, ভবন অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত কাগজপত্র দ্রুত এগিয়ে দিতে এবং পরিদর্শনে ‘সমস্যা না দেখানোর’ আশ্বাস দিয়ে কালাম এ অর্থ গ্রহণ করেন।

    এছাড়া মিরপুর এলাকার বাসিন্দা শামিমা রশিদের কাছ থেকেও তিনি দুই লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দাবি, নির্মাণাধীন ভবনের নথিপত্রে কোন ত্রুটি না ধরার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে পরিদর্শক কালাম এই অর্থ দাবি করেন এবং পরে গ্রহণও করেন। একইভাবে কল্যাণপুর এলাকায় আরেকটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্যে উঠে এসেছে—অবৈধ অর্থ নেওয়াকে আবুল কালাম নিয়মিত ‘প্রক্রিয়ার অংশ’ বলেই দাবি করেন।

    রাজউকের ভেতরে ও বাইরে আলোচিত আরেক পরিদর্শক সুলাইমানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদের মুখে সুলাইমানকে দ্রুত চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলেও একই ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবুল কালাম আজাদ বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষসহ ভুক্তভোগীরা।

    রাজউকের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে ‘প্রভাবশালী মহলের’ সহায়তা পেয়ে আসছেন। যার কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোন বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়নি। এমনকি ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আগেই তাদের ‘সমাধানের আশ্বাস’ দেখিয়ে নিরব থাকতে বাধ্য করা হয়।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘুষ–দুর্নীতির মাধ্যমে ভবন নির্মাণে অনিয়মকে উৎসাহিত করছেন এই কর্মকর্তা। আবুল কালামের মতো পরিদর্শকরা দুর্নীতি করলে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বেড়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

    এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “একজন পরিদর্শকের দুর্নীতির কারণে পুরো এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। সুলাইমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিন্তু আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এটাই আমাদের প্রশ্ন।”

    রাজউক প্রশাসনের প্রতি দাবি—ঘুষ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং নির্মাণশিল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হোক।

  • আশুলিয়ায় নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের মানববন্ধন: পূর্ণ পাওনা পরিশোধের আল্টিমেটাম

    আশুলিয়ায় নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের মানববন্ধন: পূর্ণ পাওনা পরিশোধের আল্টিমেটাম

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি

    শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া নাসা গ্রুপের এ জে গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন–মজুরি ও অন্যান্য পাওনাদি দ্রুত পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় কারখানার সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে শতাধিক শ্রমিক অংশ নিয়ে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সকল বকেয়া পরিশোধের কথা থাকলেও তাদের মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের প্রতি চরম অবহেলা ও প্রতারণার শামিল বলে দাবি করেছেন শ্রমিকরা।

    শ্রমিকদের অভিযোগ—

    ‘২৫% পাওনা নয়, পূর্ণ পাওনা চাই’

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক শ্রমিক বলেন,
    মালিকপক্ষ আমাদের সাথে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের কথা বলেছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে মাত্র ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে, যা আমরা মেনে নিতে পারি না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের সম্পূর্ণ পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে।

    চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ

    নাসা গ্রুপের কোয়ালিটি ইনচার্জ মো. ঈব্রাহিম জানান,
    গত ২৩ সেপ্টেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE), পুলিশ প্রশাসন, বিজিএমইএ প্রতিনিধি, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের উপস্থিতিতে একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল— ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সকল বেতন-বোনাস ও পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে।

    তিনি বলেন,
    চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের মোট পাওনার মাত্র ২৫% দেওয়া হয়েছে। কেন এই প্রতারণা? আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি সব পাওনা চাই।

    অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

    মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করতে সহায়তা করেন।

    শ্রমিকদের দাবি—

    ‘পরিবার-সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দ্রুত পাওনা দিন’

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বাড়ি ভাড়া, খাবার, সন্তানের লেখাপড়া—সবকিছুই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। তাই দ্রুত তাদের পুরো পাওনা পরিশোধ না হলে পরিবার নিয়ে তারা বিপদে পড়বেন।

    শ্রমিকরা ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবেন।

  • বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগ মুক্তি ও দোয়া মাহফিল কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাসেল খানের উদ্যোগে।

    বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগ মুক্তি ও দোয়া মাহফিল কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাসেল খানের উদ্যোগে।

    বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী আবসহীন দেশনেত্রী গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আশু রোগ মুক্তি ও তার সুস্থতা কামনায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাসেল খানের সার্বিক সহযোগিতায় ও আয়োজনে পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার ১ নং কাছি পাড়া ইউনিয়নে কারখানা গ্রামে এলাকার মুরুব্বী এবং তরুণদের নিয়ে দোয়ার আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য মহান আল্লাহতালার দরবারে উনার সুস্থতা কামনায় দোয়া করা হয়। যাতে বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে ফিরে আসতে পারে।

  • আশুলিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

    আশুলিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি

    বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আশুলিয়ায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং) বাদ আছর পাথালিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের গেড়ুয়া দারুল উলুম মাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আইয়ুব খান। তিনি দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন। দোয়া-মাহফিলে মাদ্রাসার শিক্ষক–শিক্ষার্থী, স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।

    কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল শেষে ছাত্র ও উপস্থিত এলাকাবাসীর মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, দেশনেত্রীর সুস্থতা কামনায় এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন সামনে আরও অব্যাহত থাকবে।

  • ধামরাইয়ে নকল খেজুর গুড় তৈরির কারখানায় র‍্যাব–৪ এর অভিযান

    ধামরাইয়ে নকল খেজুর গুড় তৈরির কারখানায় র‍্যাব–৪ এর অভিযান

    কাপড়ের রং–কেমিক্যালে তৈরি হতো খেজুর গুড়’!

     

    আলমাস হোসাইন ( ঢাকা) প্রতিনিধি

     

    ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের চাউলাইল এলাকায় কাপড়ের রং ও নানান ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে নকল খেজুর গুড় তৈরির একটি কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে র‍্যাব–৪। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে র‍্যাব-৪ এর নবীনগর ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

    স্থানীয় সূত্র ও র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে কাপড়ের রং, বিভিন্ন শিল্প–কেমিক্যাল, ফিটকিরি, চিনি, আটা, আখের গুড় এবং কৃত্রিম খেজুর গুড়ের ফ্লেভার ব্যবহার করে বাজারে ‘খাঁটি খেজুর গুড়’ নামে ভেজাল গুড় সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসব নকল গুড় প্রতিদিনই জেলায়-উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছিল, যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও অভিযোগ ছিল।

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কাঁচামাল, রাসায়নিক পদার্থ, গুড় তৈরির সরঞ্জাম, ব্যবহৃত মেশিনারি এবং প্রস্তুত অবস্থায় থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নকল গুড় জব্দ করা হয়। কারখানার ভেতরে কাজ করা কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে র‍্যাব।

    র‍্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুল ইসলাম বলেন,
    কাপড়ের রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে এ ধরনের ভেজাল গুড় তৈরি করা অত্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এসব গুড় খেলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    তিনি আরও জানান, নকল গুড় উৎপাদনকারীরা বাজারে ‘খাঁটি খেজুর গুড়’ নাম ব্যবহার করে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করছিল। বিশেষত শীতকাল সামনে রেখে গুড়ের চাহিদা বাড়ায় ভেজালকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

    অভিযান শেষে পুরো কারখানাটি সিলগালা করে দেয় র‍্যাব। পাশাপাশি ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

  • আশুলিয়ায় গরুবোঝাই ট্রাক ডাকাতি

    আশুলিয়ায় গরুবোঝাই ট্রাক ডাকাতি

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:

    ঢাকার আশুলিয়ায় ৩০টি গরু বহনকারী একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরদিন ময়মনসিংহ বাইপাস সড়ক থেকে লুট হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ট্রাকের ভেতর পাওয়া যায় পাঁচটি মৃত গরু, যা ব‍্যবসায়ীদের মাঝে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাকি গরু উদ্ধারে এবং ডাকাতচক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ জোরদার অভিযান চালাচ্ছে।

    রবিবার সন্ধ্যায় মৃত গরুসহ উদ্ধার করা ট্রাকটি আশুলিয়া থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত ডাকাতচক্রের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ঘটনার সূত্রপাত শনিবার গভীর রাতে নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায়। পুলিশ ও গরুব্যাপারীদের বরাতে জানা যায়, জয়পুরহাট থেকে ৩০টি গরু নিয়ে কুমিল্লার হোমনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ট্রাকটি। ভোররাতের দিকে বাইপাইল এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মাইক্রোবাসে থাকা ডাকাতদের একটি দল ট্রাকের গতিরোধ করে। মুহূর্তেই তারা ট্রাকে থাকা পাঁচ গরুব্যাপারী, চালক ও সহকারীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গরুবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

    খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে এবং আশপাশের বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ বাইপাসের পাশে ফেলে রাখা অবস্থায় ট্রাকটি পাওয়া যায়। তবে ট্রাকের ভেতরের পাঁচটি গরুর মৃত্যু–ঘটনা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    গরুব্যাপারী আব্দুর রহিম জানান, আমরা পাঁচজন মিলে মোট ৩০টি গরু কিনে কুমিল্লার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। ডিইপিজেড এলাকার আল-আমীন মাদ্রাসার কাছে পৌঁছাতেই ডাকাতরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে সব গরুসহ ট্রাক নিয়ে যায়। আমার সাতটি গরুর সঙ্গে নগদ এক লাখ ৩০ হাজার টাকাও ছিল। সবাই মিলে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।

    লুট হওয়া গরুর মধ্যে আব্দুর রহিমের ৭টি, মোশারফের ১০টি, রহমানের ৬টি এবং রহিমের ৭টি গরু ছিল বলে নিশ্চিত করেন ব্যবসায়ীরা।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ডাকাতচক্রকে শনাক্তে আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি। বাকি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি মূল চক্রকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • রনি–আমেনা চক্রের বিরুদ্ধে জনমতের ঝড়: মাদক দমনের নামে সৃষ্টি হয়েছে দুর্নীতির শিল্প!

    ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ময়মনসিংহ বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় কি সত্যিই মাদক দমন করছে—নাকি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত, মাসোয়ারা বাণিজ্য এবং “সেফ জোন” সৃষ্টির অন্ধকার চক্রে পরিণত হয়েছে? বহুদিন ধরে স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো অভিযোগ এবার ভয়ংকর বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ২০ নভেম্বর ফাঁস হওয়া এক ভয়েস রেকর্ডে ডিএনসির এএসআই আমেনা বেগম নিজ মুখে স্বীকার করেছেন—পরানগঞ্জের অবৈধ মদপল্লী থেকে তিনি নিয়মিত মাসোয়ারা নেন! কথোপকথনের অপর প্রান্তে থাকা মদ ব্যবসায়ী অমলকে গালাগালি, হুমকি, মাসোয়ারা আদায় এবং অপকর্মের বর্ণনা—সবকিছুই উঠে এসেছে অডিওটিতে। শোনা যায়—“আগে যা দিছস, এবারও তাই দিবি! আমার লাইনে চলবি—না হলে মামলা হইব!” ফাঁস হওয়া অডিও জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন—“যে বাহিনী দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষা করার কথা, সেই কর্মকর্তারাই যদি মদপল্লীর মাসোয়ারা খেয়ে বাঁচেন—তাহলে রাষ্ট্রকে রক্ষা করবে কে?”

    অডিও ফাঁসের পর উন্মোচিত আরেক ভয়ংকর সত্যঃ রনির ডিজি অফিসে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার ছাতা’! এএসআই আমেনা অডিওতে ভয় পেয়ে মিনতি করতে করতে বলেন—“ভাই, রনি শুনলে আমার চাকরি চলে যাবে। রনির ডিজি অফিসে বড় কর্মকর্তার সঙ্গে খুব সখ্যতা আছে! যে কাউকে বদলি করে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই নিরপরাধ একজনকে খাগড়াছড়ি বদলি করাইছে। ভাই, আমার চাকরি খাইয়েন না…” এই কথাগুলো থেকেই স্পষ্ট—মাদক দমনকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে একটি অদৃশ্য শক্তিশালী সিন্ডিকেট বহুদিন ধরেই সক্রিয়। ডিজি অফিস পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী এই সিন্ডিকেট—শাস্তির ভয় দূর করে অধীনস্থদের দিয়ে মাসোয়ারা কালেকশন করায়! নিজ জেলার গডফাদারদের সুরক্ষা দেয়! যাকে খুশি বদলি করার ক্ষমতা দেখায়! এএসআই আমেনার ভয়, কাঁপা কণ্ঠে মিনতি—এই সিন্ডিকেটের ভয়ংকর ক্ষমতার নির্মম প্রমাণ।

    অভিযোগের কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক কাওসারুল হাসান রনি! রনির বাড়ি—ময়মনসিংহের ত্রিশাল! এএসআই আমেনার বাড়ি—ঈশ্বরগঞ্জ! এএসআই ফারুকের বাড়ি—নান্দাইল! একই জেলার তিন কর্মকর্তা–কর্মচারী বছরের পর বছর একই জেলায় থেকে একটি ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করেছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—“নিজ জেলায় পোস্টিং পেয়ে কি তারা মাদক গডফাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির সাম্রাজ্য বানিয়েছেন?” অনেকে বলছেন—“এত বিপুল দুর্নীতি একদিনে হয়নি। তাহলে কর্তৃপক্ষ এতদিন কোথায় ছিল? দেখেও কি না দেখার ভান করা হয়েছে?”

    ১. গডফাদারদের সুরক্ষা—‘মাসোয়ারা নিলেই সেফ জোন’ ঘোষণা! ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০ জন কুখ্যাত মাদক গডফাদারকে মাসোয়ারার বিনিময়ে “নিরাপদ এলাকা” ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তালিকায় রয়েছে—ময়না–বুচি, নজরুল–নাজু, ডালিয়া, রুমা, রুজি, স্মৃতি, কুদু, হামে, রেহেনা, দুখিনী, সুরমা, সুবর্ণা–দেলু, মোখলেস, আনু, হাফিজুল, মোফাজ্জল, আহাদ, কাইয়ুমসহ আরও অনেকে। মাসোয়ারার টাকা ভাগ হতো—এএসআই ফারুক, এএসআই মাহাবুব, সিপাহি পাবেল, সিপাহি সোহেলের মধ্যে।

    ২. নিজ জেলার মাদক ব্যবসায় অন্ধত্ব—বাইরের জেলায় ‘সাফল্যের নাটক’! রনি নিজের জেলায় থেকে গডফাদারদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়েছেন—এমন অভিযোগ পুরনো। বেশিরভাগ মামলাই করা হয়েছে বাইরের জেলায়—যাকে বলা হচ্ছে “ফাইল সাফল্যের নাটক”।

    ৩. উদ্ধার ও মামলার অমিল—‘উদ্ধারের বড় অংশ কোথায় যায়?’ উদাহরণ: উদ্ধার ২০ কেজি গাঁজা—মামলায় ১৮ কেজি! উদ্ধার ২,০০০ ইয়াবা—মামলায় ১,৯৫০টি! নগদ টাকাও কম দেখানোর অভিযোগ! জনমনে প্রশ্ন—“বাকি অংশ কার পকেটে গেল?”

    ৪. অধীনস্থদের হঠাৎ সম্পদবৃদ্ধি—“বেতনে কীভাবে সম্ভব?” বিশেষ করে এএসআই ফারুকের—শম্ভুগঞ্জে জমি, গোয়ালকান্দিতে ১৬ শতক, সানকিপাড়ায় বাড়ি, নিজ গ্রামে আলিশান ভবন! সচেতন মহলের মন্তব্য—“এএসআইয়ের বেতনে এসব হয় না—এটাই দুর্নীতির বড় প্রমাণ।”

    ৫. রনির ব্যক্তিজীবনেও ঝড়—স্ত্রীর মামলা ও বিচ্ছেদ! পারিবারিক সূত্র বলছে—রনির ব্যক্তিজীবনে নানা অভিযোগ ও অস্থিতিশীলতা ছিল। কথা উঠছে—“নিজ পরিবারই যখন সামলাতে পারেননি—রাষ্ট্রের তরুণ সমাজকে কীভাবে রক্ষা করবেন?”

    ৬. দীপ পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধ—পরিচালকের বিস্ফোরক অভিযোগ। জেলা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দীপ পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধে রনির ‘মনগড়া রিপোর্ট’ দায়ী—এমন অভিযোগ করেছেন পরিচালক মো. আরিফ সিদ্দিকী (সুমন)। তিনি বলেন—“রনি আমার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কেন্দ্র বন্ধ করিয়েছে।” সরজমিনে দেখা গেছে—অন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে ভয়ংকর অনিয়ম থাকলেও সেখানে কোনো অভিযান নেই। কারণ—সেখান থেকেও আসে মাসোয়ারা! নাগরিক সমাজ বলছে—“এটি রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।”

    এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনমনের জোর দাবি—অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত! তদন্তের দাবিসমূহঃ ১. এএসআই আমেনার ভয়েস রেকর্ডের ফরেনসিক বিশ্লেষণ। ২. রনির দায়ের করা সব মামলার রিভিউ। ৩. উদ্ধার ও জব্দ তালিকার পূর্ণ অডিট। ৪. এএসআই ফারুক–মাহাবুবসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদ তদন্ত। ৫. সহকারী পরিচালক রনিকে অবিলম্বে অপসারণ। ৬. পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স–বেড–অনুমোদন সংক্রান্ত ঘুষ চক্রের তদন্ত।

    অভিযুক্তদের অস্বীকার—কিন্তু প্রশ্নের পাহাড়! রনি ও তার টিম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু—ভয়েস রেকর্ড, উদ্ধার–মামলার অমিল, গডফাদার সুরক্ষা, হঠাৎ সম্পদবৃদ্ধি, নিজ জেলায় বছরের পর বছর পোস্টিং! ডিজি অফিসে অদৃশ্য প্রভাব! নিরপরাধকে খাগড়াছড়িতে বদলি! চুরির অভিযুক্তকে কিশোরগঞ্জে (ভৈরবে) প্রাইজ পোস্টিং! পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধের প্রশ্নবিদ্ধ রিপোর্ট! এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দাবি—“মাদক দমনের নামে দুর্নীতির সাম্রাজ্য ভেঙে দিন—নইলে জনগণের আস্থা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।”

    জাতীয় নিরাপত্তার সংকট! এটি শুধু একটি জেলার সমস্যা নয়—এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘোষণা করা এক নীরব যুদ্ধ। জনগণের বার্তা পরিষ্কার—“মাদক দমনের নামে দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দিন—না হলে দেশে মাদক ব্যবসাই সরকারি লাইসেন্স পেয়ে যাবে!”

  • তাজরীনের ১৩ বছর: না–ফোটা স্বপ্ন আর দাঁড়িয়ে থাকা এক পোড়া স্মৃতি

    তাজরীনের ১৩ বছর: না–ফোটা স্বপ্ন আর দাঁড়িয়ে থাকা এক পোড়া স্মৃতি

    আলমাস হোসাইন : (ঢাকা) প্রতিনিধি
    তাজরীন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ডের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বদলায়নি নিহত ও আহত শ্রমিক পরিবারের ভাগ্য। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে ভয়াবহ আগুনে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। কয়েকশ শ্রমিক পুড়ে ও পঙ্গুত্ব নিয়ে আজও জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। সময় গড়ালেও ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচারের আলো তাদের দিগন্তে ফুটে ওঠেনি।

    পোড়া নয়তলা ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে নীরব সাক্ষী হয়ে। দেয়ালের ক্ষতচিহ্ন মিলিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের ফাঁক–ফোকরে জমে থাকা কালো ছাই আর আগাছা যেন স্মরণ করিয়ে দেয় সেই দিনের আতঙ্ক—জীবন বাঁচাতে জানালা বেয়ে লাফ, সারি সারি পোড়া লাশ, আর অসহায় মানুষের কান্না।

    আহত শ্রমিক নাসিমা বলেন,
    ১৩ বছরেও কেউ খোঁজ নেয় না। পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব। ভাবছি—তাজরীনের ভেতরে গিয়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করবো।

    আরেক শ্রমিক ফাতেমার ভাষায়,
    বাড়িতে খাবার নেই, কাজ করার শক্তিও নেই। দুই সন্তান নিয়ে মানুষের দয়ার উপরই ভরসা।

    তাদের অভিযোগ—স্মরণ দিবসের বক্তৃতা ছাড়া সারা বছর কেউ পাশে থাকে না। চিকিৎসা, আবাসন, ক্ষতিপূরণ—সবই এখনো অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি।

    বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু বলেন,
    সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতিশ্রুত সুবিধার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়নি। আন্তর্জাতিক সহায়তাই একমাত্র ভরসা।

    বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা জেলা সভাপতি মারুফ হোসেনও একই সুরে বলেন,
    তাজরীন, রানা প্লাজাসহ বড় দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ ও বিচার—সবই কাগজে–কলমে সীমাবদ্ধ।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমের মতে,
    শিল্পোন্নয়ন হলেও শ্রমিক নিরাপত্তার আইন এখনো দুর্বল। সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে তাজরীনের মতো ভয়াবহতা আবারও ঘটতে পারে।

    প্রতিবছর ২৪ নভেম্বর পোড়া ভবনটির সামনে জড়ো হন নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্য, আহত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা। তাদের একই দাবি—ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও স্থায়ী নিরাপত্তা।

    ১৩ বছর পরও তাজরীন ট্র্যাজেডির ক্ষত শুকায়নি। পোড়া ভবনটি আজও প্রশ্ন তোলে—
    শিল্প শ্রমিকদের জীবন কি এখনো অনিরাপদ? ক্ষতিগ্রস্তদের ভবিষ্যৎ কি কোনোদিন আলো দেখবে?
    তাজরীনের শ্রমিকরা সেই উত্তরের অপেক্ষায় আজও দিন গুনে চলেছেন।

  • আশুলিয়ায় শ্রমিকবাহী বাসে রহস্যজনক আগুন—বিপরীত বক্তব্য মালিক–পুলিশের

    আশুলিয়ায় শ্রমিকবাহী বাসে রহস্যজনক আগুন—বিপরীত বক্তব্য মালিক–পুলিশের

    আলমাস হোসাইন : (ঢাকা) প্রতিনিধি

    ঢাকার আশুলিয়ায় শ্রমিকবাহী একটি চলন্ত বাসে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের সম্ভার ফিলিং স্টেশনের সামনে চন্দ্রাগামী লেনে সিমা–সিমলা এন্টারপ্রাইজ এর বাসটিতে এ ঘটনা ঘটে।

    বাসটি ডিইপিজেড শ্রমিক পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল বলে জানা গেছে।

    মালিকের বক্তব্য

    বাস মালিক সেলিম খান জানান, ডিইপিজেডের ছুটির সময় শ্রমিক আনতে পলাশবাড়ী থেকে বাসটি রওনা হয়। পেট্রলপাম্পের সামনে আসতেই হঠাৎ পেছনের সিটে আগুন দেখা যায়।
    তার দাবি—দুর্বৃত্তরা হয়তো আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কীভাবে আগুন দিল বুঝতে পারিনি।
    তিনি আরও বলেন, আগুনে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    চালকের দাবি

    বাস চালক রেজাউল জানান, আগুনের তাপ অনুভব করে তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন ছয়টি সিট জ্বলছে।
    তার কথায়—এমনিই আগুন লাগার কথা নয়, তবে কাউকে আগুন দিতে দেখিনি।

    পুলিশের ভিন্ন ব্যাখ্যা

    আশুলিয়া থানার ওসি মো. আব্দুল হান্নান ভিন্ন তথ্য দেন।
    তার দাবি—বাসের চালকের সহকারী অসচেতনভাবে জ্বলন্ত দেশলাই বাসের ভেতর ফেলে দেন, যা গ্যাসকিটে আগুন ধরে পেছনের সিটে ছড়িয়ে পড়ে।
    ঘটনার পর চালক থাকলেও সহকারী পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।

    ফায়ার সার্ভিসের তথ্য

    ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরী বলেন—
    খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাসের পেছনের অংশের বেশ কিছু আসন পুড়ে গেছে।

  • আশুলিয়ায় দুই গাড়ির মাঝে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    আশুলিয়ায় দুই গাড়ির মাঝে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    আলমাস হোসাইন : (ঢাকা) প্রতিনিধি:

    আশুলিয়ায় কারখানা ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে দুই গাড়ির মাঝে চাপা পড়ে মিজানুর রহমান (৩০) নামে এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় ফাউন্টেন ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিজানুর রহমান গাইবান্ধা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার কাইচাবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ডিইপিজেডের হপইক (বাংলাদেশ) কারখানায় সিনিয়র কার্ডিং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ফাউন্টেন গার্মেন্টসের সামনে ময়লা বোঝাই একটি পিকআপ হঠাৎ সামনে থাকা ফাউন্টেন কারখানার কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দিলে মিজানুর দুই গাড়ির মাঝখানে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    তবে ডিইপিজেডের শ্রমিকদের একটি অংশের দাবি, ঘটনা শুধু দুর্ঘটনা নয়—ফাউন্টেন গার্মেন্টসের কাভার্ড ভ্যানটি ইচ্ছাকৃতভাবেই মিজানুর রহমানকে চাপা দিয়েছে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    নাইম নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলাম। ভ্যানটি যেভাবে মিজানকে চাপা দিয়েছে, সেটি আমাদের কাছে সাধারণ দুর্ঘটনা মনে হয়নি। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই সন্দেহ হচ্ছে।

    নিহতের এক স্বজন জানান, মিজানই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছি না। আমরা এর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।

    এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, দুটি গাড়িই জব্দ করা হয়েছে। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো বিষয়—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দায়ী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।