Category: অপরাধ

  • ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ

    ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :
    রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ফায়ার ফাইটারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান (৪৩) বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) মিরপুর মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। জিডি নং-২৭০৪ (ট্র্যাকিং: F8PXG3)। জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ কামাল (৪২), যিনি ডেমরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত, এবং মোঃ খায়রুল আলম (৩৬), যিনি কালীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল ভুক্তভোগীকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব দেন। এ কাজের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের আশ্বাসও দেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী এ ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কামাল একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। জিডিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

    এদিকে অপর অভিযুক্ত খায়রুল আলমের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিডিতে বলা হয়, তিনি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। এতে করে ভুক্তভোগী আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।

    ভুক্তভোগী আরও জানান, পরবর্তীতে অপরিচিত একটি নম্বর থেকেও তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং অশোভন ভাষায় কথা বলা হয়। এতে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

    জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, কামাল নিজেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করতেন এবং তাকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। একইসঙ্গে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথাও প্রচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়াও অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ তাকে ‘ফায়ার সার্ভিসের ক্যান্সার’ বলেও অভিহিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করতেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাতেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, কামাল বঙ্গভবনের প্রভাব ব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে পদক গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগেও অভিযুক্ত।

    আরও জানা গেছে, তিনি নিয়মিত দায়িত্বস্থলে উপস্থিত না থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন এবং নিজেকে তথাকথিত ‘ম্যাচ ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারে লিপ্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।

    সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন তিনি, এই মর্মে যে তিনি ডিজি ও পরিচালকদের পরিবর্তন করাতে সক্ষম হবেন। তবে পরে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের ৩৩ জন ড্রাইভার, ফায়ার ফাইটার ও লিডারদের বদলি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তিনি এসব অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন।

    অভিযোগ রয়েছে, তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি নিয়মিত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং বর্তমান মহাপরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    এর আগে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তা এড়িয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তাকে দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হন।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তাকে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ফায়ার স্টেশনে বদলি করা হয়। তবে তিনি সেখানে যোগদান করেননি। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয় এবং তিনি পুনরায় পূর্বের স্থানে বহাল থাকেন।

    আরও অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তিনি নিয়মিত বঙ্গভবনে যাতায়াত করতেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। এমনকি তার ছোট ভাইকেও রাষ্ট্রপতির প্রভাব খাটিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি গাজীপুরে কর্মরত রয়েছেন।

    এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় হলেও তিনি ভুয়া কোটার মাধ্যমে বগুড়া থেকে চাকরিতে যোগদান করেছেন।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাবেক সরকার প্রধান দেশ ত্যাগের পরও অভিযুক্তরা নতুন পরিস্থিতিতেও পুরনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তৎকালীন মহাপরিচালককে ফোন করিয়ে ভুক্তভোগীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    বর্তমানে চাকরি হারানো ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান তার চাকরি পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

    তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আপনি নিউজ করেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

  • আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    আলমাস হোসাইন | স্টাফ রিপোর্টার
    ঢাকার আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম।
    এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়।
    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আশুলিয়ার জামগড়া কাঠালতলা এলাকার মৃত ফালু মিয়ার ছেলে সামাদ ভূঁইয়া (৫২) এবং বগুড়া জেলার গাবতলী থানার বেলতলা এলাকার মৃত আকরামুলের ছেলে সান্নান বাবু (৪২)। সান্নান বাবু বর্তমানে সামাদ ভূঁইয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
    ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শুক্রবার রাতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে জামগড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের হেফাজত তল্লাশি করে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
    পুলিশ জানায়, আটক দুই ব্যক্তি পেশাদার মাদক কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
    ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
    তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে নারীসহ চার মাদক ব্যবসায়ী ধরা

    আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে নারীসহ চার মাদক ব্যবসায়ী ধরা

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকার আশুলিয়ায় পৃথক দুটি অভিযানে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা, ২০ লিটার চোলাই মদ ও ৫১টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম।
    ডিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত আশুলিয়ার ইউনিক বাসস্ট্যান্ড ও নরসিংহপুর লালপাহাড় সিটি এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    অভিযানে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বালোবাড়ী এলাকার ইউসুফ আলী (৪৫) ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০)কে ১ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। একই সময় ২০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার করা হয় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চর মাছুয়া এলাকার আরিফ হোসেন রাজু (২৬)কে। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
    পরে শুক্রবার ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর লালপাহাড় সিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিদ্যুৎ সরকার (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আশুলিয়ার ইয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা।
    ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ইউসুফ আলী ও বিদ্যুৎ সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও পাঁচটি করে মাদক মামলা ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
    এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • আশুলিয়ায় ৩০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, গাড়ি জব্দ

    আশুলিয়ায় ৩০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, গাড়ি জব্দ

    আলমাস হোসাইন | স্টাফ রিপোর্টার
    ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বারইপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নোয়া (NOAH) গাড়িও জব্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানান র‍্যাব-৪ সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে বারইপাড়া এলাকা থেকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত মো. জুয়েল মিয়া (২৩) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার আবদার সালেহার বটতলা, ময়নাবাদ এলাকার ওমর আলী (কাজল)-এর ছেলে।

    র‍্যাব জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নবীনগর এলাকায় চেকপোস্ট ডিউটির সময় সন্দেহজনক একটি নোয়া গাড়িকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে চালক তা অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরে র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে আশুলিয়ার বারইপাড়া এলাকায় গাড়িটি থামাতে সক্ষম হয়।

    গাড়ির চালকের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় গাড়িটি তল্লাশি করা হলে চালকের আসনের নিচে ও পেছনের অংশে লুকিয়ে রাখা ১২টি প্যাকেট থেকে মোট ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

    এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিলভার রঙের নোয়া গাড়িটি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব জানতে পারে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।

    র‍্যাব আরও জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ধর্ষণ মামলায় আশুলিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘বিপি ইমরান’ গ্রেপ্তার

    ধর্ষণ মামলায় আশুলিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘বিপি ইমরান’ গ্রেপ্তার

    আলমাস হোসেন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. ইমরান ওরফে ‘বিপি ইমরান’-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
    গ্রেপ্তারকৃত মো. ইমরান ওরফে বিপি ইমরান সাভারের আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। মামলায় তার সহযোগী হিসেবে জুনায়েত ও সোমাইয়া নামে আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
    ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিপি ইমরানের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল এবং তিনি তাকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের ভিডিও তৈরি করতেন। তবে সম্প্রতি ওই নারী টিকটকের ভিডিও নির্মাণে আর আগ্রহী না থাকায় অভিযুক্ত ইমরান ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ মার্চ দুপুরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় নিজের বাড়িতে একা পেয়ে তিনি ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
    পরবর্তীতে অভিযুক্ত ইমরান অন্য দুই আসামিকে ডেকে এনে তাদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী নারীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে ওই নারী আশুলিয়া থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
    এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে রোববার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

    বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

     

    ‎কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূঁইয়া

    কুৃমিল্লার ‎বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের ছোট তুলাগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে এক নির্মান শ্রমিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

    ২৬শে ফেব্রুয়ারী সকাল দশটায় প্রবাসী শাহ আলমের বিল্ডিংয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বিদ্যুৎ পিষ্ঠ হয়ে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকার খিলা গ্রামের সাখাওয়াত নামে নির্মান শ্রমিক মারাত্মক বৈদ্যুতিক তারের সাথে স্পর্শ হয়ে তিনতলা ভবন থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যায় পা ভাঙ্গাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে নির্মানাধীন বাড়ির ঠিকাদার ছোটতুলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা শরীফ জানান আমরা কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি একেবারে শেষ পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল বেলা কাজের সময় বিদ্যুৎতের তারের সিমেন্ট পরলে এখান থেকেই সমস্যা সৃষ্টি হয়ে এবং সাকাওয়াত মাটিতে পরে যায়।

    এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান সকাল দশটায় হঠাৎ বিকট শব্দ হলে সবাই দৌড়ে এসে দেখেন নির্মান শ্রমিক সাকাওয়াত মাটিতে পরে আছে। তার অবস্থা খারাপ দেখে পাশ্ববর্তী বাগমারা বাজারে গিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    ‎বাড়ির মালিক শাহ আলম প্রবাস থেকে মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে হুমকি ও মামলা দিবে বলেন ধমক দেন তিনি আরো বলেন এবিষয়ে যেন নিউজ না করার হয়।

    ‎এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুমিল্লা ০১ (বরুড়া)’র ডি জি এম রীশু কুমার ঘোষ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎতের খুঁটি ঘরের ভিতরে নিয়ে ঘর নির্মান করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ , আমরা তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নিবো এবং সকল আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো জানান।
    ‎

    ‎

  • নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    জাহাঙ্গীর মীর:-

    চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ছলে সংঘটিত নৃশংস হামলায় গৃহবধূ রেহেনা বেগম (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। স্বামী ও ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুখোশধারী হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিল্লাল হোসেন বিদেশে কর্মরত থাকায় তার স্ত্রী রেহেনা বেগম একাই বাড়িতে বসবাস করতেন।
    অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরিহিত ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বলে। তিনি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারীদের মুখোশ খুলে গেলে তিনি তাদের চিনে ফেলেন। তখন হামলাকারীরা ঘরের ভাঙা কাঁচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন ভাঙা কাঁচ দিয়ে তার মাথা ও পিঠে আঘাত করে এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
    এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মোঃ আজহারুল ইসলাম সোহান (১৭) ও মোঃ রবিউল হাসান (১৬)-এর নাম উঠে আসে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সোহানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিউল হাসানকেও গ্রেফতার করে। দুই নম্বর আসামি রবিউল জামিন নিয়ে এখন আত্মগোপনে ।

    নিহতের বিবাহিত মেয়ে বলেন, “ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে তারা আমার মাকে হত্যা করেছে। আমরা বিচার চাই, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি নিহত রেহেনা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের গভীর সংকেত দিচ্ছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    নিজস্ব প্রতিনিধি:

    সংবাদ সংগ্রহে বের হওয়া একজন সাংবাদিকের হাতে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা নোটবুক — কোনো অস্ত্র নয়। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর পুলিশি হামলা, লাঞ্ছনা ও কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আবুল হাসনাত সজিব।

    তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী নয় যে তাদের উপর প্রশাসন বারবার হামলা চালাবে। সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তাই একজন সাংবাদিকের উপর হামলা মানে জনগণের জানার অধিকারকে সরাসরি আঘাত করা।”

    সাংবাদিক সজিব আরও বলেন, “বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কার্যকর জবাবদিহি এখনো নিশ্চিত হয়নি। একটি কার্যকর গণতন্ত্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যম — উভয়েরই দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই পারস্পরিক সম্মান, সমন্বয় ও স্পষ্ট নীতিমালার আলোকে কাজ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”
    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থবিরোধী তথ্য আড়াল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
    মাঠে কী ঘটছে?

    সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কর্মসূচি, দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন জনস্বার্থে সত্য তথ্য তুলে ধরতে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া, ক্যামেরা ভাঙচুর, এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এখন সংবেদনশীল স্থানে কাজ করতে গেলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

    কেন ঘটছে এমন ঘটনা?
    অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, পূর্ববর্তী হামলার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। যখন অপরাধীরা জবাবদিহির বাইরে থাকে, তখন ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার পথ তৈরি হয়।

    সমাধানে যা করতে হবে:
    সাংবাদিক সজিব দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের গণমাধ্যমবান্ধব আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ জোরদারের দাবিও তুলেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, সাংবাদিক নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রণয়ন, যৌথ কর্মশালা আয়োজন এবং জরুরি সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করা এখন সময়ের দাবি।

    বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা শুধু একটি পেশার সংকট নয় — এটি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংকট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দায়িত্ব।

  • চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, গুরুতর আহত

    চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, গুরুতর আহত

    আশুলিয়া প্রতিনিধি :

    ঢাকার আশুলিয়ায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাকির হোসেন (৩৯) নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আশুলিয়ার পাবনাটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চাঁদা দাবি করলে ভুক্তভোগী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দেলোয়ার ফরাজীর নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত দেলোয়ার ফরাজী (পিতা: সিরাজ ফরাজী) পাবনাটেক এলাকায় নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
    আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • গৌরীপুরে এস আই সিদ্দিককে ম্যানেজ করে ভূমি দখল করছেন একরাম ও রমজান বাহিনী

    গৌরীপুরে এস আই সিদ্দিককে ম্যানেজ করে ভূমি দখল করছেন একরাম ও রমজান বাহিনী

    রিয়াদুল ইসলাম আফজাল:

    কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একরাম ও রমজান নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনী গত প্রায় ১৭ বছর ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং বিভিন্ন কৌশলে জমি দখল করছে।

    অভিযোগ রয়েছে, একরাম বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে পুঁজি করে প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলে নিচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গৌরীপুর এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির মূল্য বর্তমানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে এই এলাকার জমির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। এই উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়েই চক্রটি সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

    একাধিক সূত্রের দাবি, একরাম এর দশ ভাইয়ের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে অথবা আত্মগোপনে রয়েছে। তবে একরাম ও রমজান এখনো এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তাদের প্রভাব অটুট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধে তারা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    এ ঘটনায় গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি স্থানীয় অপরাধ জগতের নানা তথ্য সম্পর্কে অবগত এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একরাম-রমজান বাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করেই জমি দখলের কাজ সহজ করা হচ্ছে।

    তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিকের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে উভয় পক্ষ আদালতে মামলা করেছেন এবং বিষয়টি বিচারাধীন। তার দাবি, পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ করছে।

    অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তুচ্ছ বিষয় বা মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের অজুহাতে অনেককে আটক করে পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য, “টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়”—এমন ধারণা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই একটি জমি নিয়ে চলমান বিরোধের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট জমির মালিক নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালীদের ভয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না।

    এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি দখল, ভয়ভীতি ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে গৌরীপুরে এক ধরনের আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    গৌরীপুরবাসীর প্রত্যাশা, ভূমিদস্যুদের প্রভাব ও হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।