Category: অপরাধ

  • অষ্টগ্রামে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩


    মোঃ আল আমিন,বিশেষ প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ জানায়, দেওঘর ইউনিয়নের সাভিয়ানগরে মাওলানা আব্দুল আলীর খানকা শরীফের সামনে পাকা সড়ক থেকে মো. সাহাবুদ্দিন ভূইয়া (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সদরয়নগর হামিদ ব্রিজের দক্ষিণ পাশ এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১০(ক) অনুযায়ী মামলা (এফআইআর নং-০৮, তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।

    একই দিনে পৃথক আরেকটি অভিযানে দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাভিয়ানগর এলাকায় হাজী লাল মিয়া মাদ্রাসার সামনে পাকা সড়ক থেকে ছন্টি মিয়া (৩২) ও আবুনী রবিদাস (৫৩)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    ছন্টি মিয়ার বাড়ি রংপুরহাটি গ্রামে এবং আবুনী রবিদাসের বাড়ি সাভিয়ানগর গ্রামে।
    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুইজনের কাছ থেকে মোট ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৯(ক) অনুযায়ী মামলা (এফআইআর নং-০৯, জিআর নং-৯৪, তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৬) রুজু করা হয়েছে পরে তাদেরকে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকনুজ্জামান বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।

  • নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৮০ হাজার ৩৩৬ পিস ইয়াবাসহ আটক-২,জব্দ করা হয়েছে ব্যবহৃত গাড়ি


    নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে একটি জিপ গাড়িতে লুকিয়ে রাখা ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়ি। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সে এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় বেহুলা ইউনিয়নের ইটমুনি হেতালিয়া পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদ সিকদারের ছেলে মো. পারভেজ (৪২) ও একই গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে মো.বিপ্লব (৪৮)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আসামিদের ব্যবহৃত কালো রঙের হার্ডজিপ গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডান পাশের দরজায় বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ৪১টি কাগজের প্যাকেটের মধ্যে ১৯৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলি ব্যাগে এসব ইয়াবা রাখা ছিল।

    নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে।

    উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। মাদক করাবরি পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নয়টি মামলা রয়েছে।

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্টের অভিযান: কৃষি জমিতে ভরাটের দায়ে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, ৪ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ৫টি মামলা দায়ের করেছে। অভিযানকালে ১ লক্ষ টাকা নগদ অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং ৪ জন আসামিকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রি. উপজেলার তিরিয়া, নাগরী এবং মোক্তারপুর এলাকায় এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
    আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম মোকলেছ (৩৮) অনুমতি ব্যতীত অবৈধভাবে বালু ভরাট করে কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করছিলেন। এই অপরাধে তাকে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ এর ১৫(১) ধারায় ১টি মামলায় ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।

    একই অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন ও কেনাবেচার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর ৩৬(৫) ধারায় ৪টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলাসমূহে ৪ জন আসামিকে দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ০১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    সাজাপ্রাপ্তরা হলেন: ১। মেহেদী হাসান (১৮), পিতা- মহিউদ্দিন, সাং- দক্ষিণ খলাপাড়া, দক্ষিণভাগ, বাহাদুরসাদী, কালীগঞ্জ, গাজীপুর।
    আশরাফ হোসেন সেতু (২৭), পিতা- মোশারফ হোসেন, সাং+ইউপি- মোক্তারপুর, পো: সাওরাইদ, কালীগঞ্জ, গাজীপুর।

    ৩. রাকিব হাওলাদার (২৪), পিতা- গিয়াস হাওলাদার, সাং- সাতপাড়ি, পো: সাতপাড়ি, থানা- রামপাল, জেলা- বাগেরহাট।
    ৪. মো: ইসমাইল (২২), পিতা- জয়লাল আবেদীন, সাং- সোনাপাতা, ধনিয়া পাড়া, থানা- দেবীগঞ্জ, জেলা- পঞ্চগড়।

    অভিযান পরিচালনা ও আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণে প্রসিকিউটর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: হায়াত্তুর রহমান। এছাড়াও আদালতকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল।
    বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জনস্বার্থে এবং উপজেলার পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের আইনগত ও শাস্তিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

  • বীমা কোম্পানির আড়ালে প্রতারণা করে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ধানগড়া ইউনিয়নে বীমা কোম্পানির আড়ালে প্রতারণা করে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

    তথ্য সূত্রে জানা যায়, ধানগড়ার ক্ষুদ্র সাদ্রা গ্রামের মৃত: নওশের আলী সেখের ছেলে হাফেজ সদর আলী। এই প্রতারণা শিকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে আশরাফ আলী ১৬ জুলাই রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিমিটেড নামে ভুয়া মানি রিসিভ প্যাড ছাপায় যেখানে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে প্রধান কার্যালয় সুরমা টাওয়ার (১২ তম তলা), ৫৯/২ পুরানা পল্টন ঢাকা- ১০০০।

    গ্রামের খেটে খাওয়া বিধবা দিনমুজুরদের কাছ থেকে কৌশলে ফুসলিয়ে মাসে জনপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা মানি রিসিভের মাধ্যমে জীবন বীমা নামে কিস্তি আদায় করেছেন। ক্ষুদ্র সাদ্রা গ্রামের ৪২ জন সদস্যদের নিকট থেকে ১০ বছরে দ্বিগুণ ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ময়নাল সেখ,আশরাফ আলী মীর,আসাদুল ইসলাম, আজিজ সেখ, রফিকুল ইসলাম সহ ৪২ জন সদস্যের নিকট থেকে পাস বই ও মানি রিসিভ দিয়ে প্রতি মাসে টাকা আদায় করেন। টাকার নেওয়ার প্রমাণস্বরূপ পাস বই মানি রিসিভ প্রদান করেছেন।

    ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, মেয়াদপূর্তির পর টাকা ফেরত চাইলে অর্থ ফেরতের কথা বলে কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে যাবতীয় ডকুমেন্টস নিলেও টাকা ফেরত দেন নাই। এ বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিক বার শালিস হয়েছে। শালিসে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে প্রতারক সদর আলী জানান,সময় হলেই টাকা ফেরত দিয়ে দিব।

    রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আহসানুজ্জামান বলেন,অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হবে, প্রমান পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রতারক সদ

  • পত্নীতলা থানার অভিযানে ১৩.৭৫ লিটার চোলাই মদসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক


    পত্নীতলা নওগাঁ প্রতিনিধি:
    নওগাঁর পত্নীতলা থানার পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৩.৭৫ লিটার চোলাই মদসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে পরিচালিত অভিযানে উপজেলার উষ্টি হাটপুকুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রীমতি লতা রানী (৪২), স্বামী ধনেশ্বর ওরফে ধনি-কে তার নিজ বসতবাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১৩.৭৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

    এ ঘটনায় আটক লতা রানীর বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষকদের পাহারায় ব্যর্থ ট্রান্সফরমার চুরি, ফেলে গেল পরিচয়পত্র সহ নানা আলামত

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির আরেকটি চেষ্টা স্থানীয়দের সতর্কতায় ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় চোরচক্রের সদস্যরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, গেঞ্জি, টর্চ (ডায়াস) লাইট, সিগারেটের প্যাকেট, দুই জোড়া প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, প্লাস্টিকের রশি, মানিব্যাগ, একটি বাঁশসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ফেলে যায়। এসব আলামত ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজমতপুর মৌলভীবাড়ি গভীর নলকূপের আওতায় কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার জন্য তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে একটি ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে পালাক্রমে রাত জেগে ট্রান্সফরমার পাহারা দিচ্ছেন।

    স্থানীয়দের দাবি, ১৩ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে একই চক্র আবারও একটি ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে আসে। তবে পাহারায় থাকা লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। তড়িঘড়ি করে পালানোর সময় ঘটনাস্থলে ফেলে যায় চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

    গভীর নলকূপের চালক আবু তৈয়ব আখন্দ জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি ট্রান্সফরমার দেখতে গেলে দুই ব্যক্তিকে সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তিনি তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি, মানিব্যাগ, টর্চ লাইট, প্লাস্টিকের রশিসহ বিভিন্ন আলামত পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় কৃষক আনিসুর রহমান আখন্দ, শফিকুল ইসলাম, মজিবুর রহমান ও আকিব হোসেন বলেন, “ট্রান্সফরমার রক্ষা করতে এখন আমাদেরই রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। কৃষিকাজ সামলানোর পাশাপাশি এ দায়িত্ব পালন করা খুবই কঠিন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাতে চোরদের বাধা দিতে গেলে জীবনের ঝুঁকিও থাকে। বারবার চুরির ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

    তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে যখন গভীর নলকূপের প্রয়োজন থাকে না, তখন ট্রান্সফরমার খুলে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হলে চুরির আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। শুষ্ক মৌসুমে আবার তা পুনরায় স্থাপন করা যেতে পারে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা একাধিকবার ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র বারবার একই স্থানে হামলার সাহস পাচ্ছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতেই ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক আবেদন করলে বর্ষা মৌসুমে ট্রান্সফরমার খুলে পল্লী বিদ্যুতের হেফাজতে অথবা গ্রাহকের নিজস্ব হেফাজতে রাখা যেতে পারে। পরে প্রয়োজন হলে পুনরায় সেটি স্থাপন করে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, “এ ধরনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের আবেদন ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।”

  • চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার ৩


    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়া থানাধীন চুনতি জাঙ্গালিয়া চেকপোস্টে পুলিশি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে একটি প্রাইভেটকার সহ তিনজন অস্ত্রধারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে ২টি দেশীয় তৈরি এলজি (অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সরকারি মহিলা কলেজের গেটের সামনে মহাসড়কে এ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন পর্যায়ক্রমে ১) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার গাছির বাড়ীর বাসিন্দা মৃত রব পাটোয়ারীর ছেলে হোসাইন আহম্মেদ (৪২)। ২) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা আবদু শুক্কুরের ছেলে আয়াত উল্লাহ(২৮)। ৩) ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ কোনাপাড়া, সরতাজ বাহের এলাকার বাসিন্দা নবী হোসেন এর পুত্র মো: আসাদুজ্জামান(৩৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে কক্সবাজারমুখী একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকারকে (ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৩০৬৫) থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করে এবং চুনতি সরকারি মহিলা কলেজের গেটের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি থামাতে সক্ষম হয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের সিটের নিচ থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২টি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে গাড়িতে থাকা ৩ আরোহীকে গ্রেফতার এবং প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

    সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামীকাল সকালে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, ৭৫ বোতল ভারতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। জব্দকৃত সিরাপের কোনো দাবিদার না থাকায় এগুলো মালিকবিহীন হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। নায়েক মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত পিলার ১৮২/৩-এস থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের উনিশদীঘি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযান চলাকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ উদ্ধার করে বিজিবি। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি জানায়, জব্দ করা সিরাপগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

  • ছাত্র হত্যা, গুম ও থানায় ধর্ষণের পৈশাচিক খলনায়ক ডিসি আলমগীর: বরখাস্তের পরও খুনের লাইসেন্স ও ডাবল প্রমোশন দিয়ে এবার রংপুর রেঞ্জের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ‘এসপি অ্যাডমিন’

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ
    ফ্যাসিবাদী জল্লাদ সরকারের অন্যতম প্রধান লাঠিয়াল, সীমাহীন দুর্নীতি, লম্পটতা ও পাশবিকতার জীবন্ত নরকখণ্ড পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের গা শিউরে ওঠা আমলনামা ফাঁস হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে ঝাঁঝরা করা, ব্যবসায়ীকে গুমের চেষ্টা, খোদ থানার ভেতরেই অসহায় নারীকে পৈশাচিক ধর্ষণ এবং নিরীহ মানুষের চোখ কলম দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে অন্ধ করার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতার মূল হোতা এই আলমগীর। চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, সরকারি তদন্তে এই পিশাচের সমস্ত জঘন্য অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত “বরখাস্ত” (Dismissal from service) করার সুপারিশ করার পরও এই নরপশুর গায়ের একটা পশমও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি।

    এর পেছনে রয়েছে এক চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আঁতাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে এবং সেই ‘ক্যাডার কোটার’ অন্ধ প্রভাবে আলমগীরের খুঁটির জোর ছিল আকাশচুম্বী। আর এই সুযোগে আইন ও নিয়মনীতিকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তার ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হন বিগত খুনী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সরাসরি আশীর্বাদ ও ক্ষমতার কালো থাবায় চাকুরীতে পুনর্বহাল করা হয় এই চিহ্নিত অপরাধীকে। শুধু পুনর্বহালই নয়, উপহার হিসেবে দেওয়া হয় পর পর দুইটি জবরদস্ত পদোন্নতি! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবের প্রত্যক্ষ মদদে ডিএমপির ‘ডিসি ক্রাইম’-এর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পদ ভাগিয়ে নিয়ে বিগত ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে খুনের নেশায় মেতে উঠেছিল এই নরপিশাচ। আর বর্তমানেও সমস্ত অপরাধ আড়াল করে সে বাগিয়ে নিয়েছে রংপুর রেঞ্জের পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স)-এর মতো প্রভাবশালী ও দোর্দণ্ড প্রতাপশালী চেয়ার!

    প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ফিল্মি কায়দায় গুমের চেষ্টা ও ৪৫ মিনিটে ৫ মামলা!

    অনুসন্ধানে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া নথির সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে মৌলভীবাজারের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থাকাকালে আলমগীর হোসেন ও তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ডা: রাজিয়া সুলতানা মিলে জে পি এল ডোর এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ও জালালাবাদ প্রোডাক্টস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম সজীবের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর ব্যবসা সম্প্রসারণের লোন, বাকিতে দামি ফার্নিচার ও গাড়ি কেনা বাবদ ব্যবসায়ী সজীবের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা সুকৌশলে হাতিয়ে নেন আলমগীর।

    পরবর্তীতে সজীব নিজের পাওনা টাকা ফেরত চাইতেই হিংস্র বাঘের মতো গর্জে ওঠে এই উর্দিধারী ডাকাত। পাওনাদারকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট ব্যবসায়ী সজীবকে ঢাকার তার বাসা থেকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করে গুম করার উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায় আলমগীর ও তার বাহিনী। কিন্তু স্থানীয় জনতা ও উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে গুমের মিশন ব্যর্থ হলে তাকে সরাসরি মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে মাত্র ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে সজীবের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ৫টি সম্পূর্ণ সাজানো, বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয় এই জালিয়াত পুলিশ কর্মকর্তা।

    এই পৈশাচিক ষড়যন্ত্রের পেছনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের চিফ হুইপ ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এবং তার ছোট ভাই মোসাদ্দেক হোসেন মানিক। আলমগীর তার খালাতো ভাই সোহেল রানা, বান্ধবী ডা: রাজিয়া সুলতানা এবং নিজের বডিগার্ড নাজিম উদ্দিনকে বাদী বানিয়ে এই মিথ্যা মামলাগুলো করায়। এরপর ব্যবসায়ী সজীবকে জেলে পুরে দিনের পর দিন চালানো হয় অমানুষিক ও অর্বাচীন নির্যাতন। ধ্বংস করে দেওয়া হয় তার শত শত শ্রমিকের রুটি-রুজির কর্মস্থল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

    চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ ডাস্টবিনে ফেলে প্রমোশনের মহোৎসব!

    এই পৈশাচিক জুলুমের প্রতিকার চেয়ে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সজীব ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে আলাদা দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তে আলমগীরের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি পৈশাচিকতার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে “চাকুরী হতে বরখাস্ত” (Dismissal from service) করার গুরুদণ্ড প্রদান পূর্বক পিএসসির চূড়ান্ত মতামত চায়। একই বছরের ২১ অক্টোবর পাবলিক সার্ভিস কমিশনও (PSC) তাকে সরকারি চাকরি থেকে চিরতরে বরখাস্ত করার সপক্ষে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়।

    দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশকে স্রেফ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যান আলমগীর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সকল নিয়ম ও তদন্তকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে তাকে আবার চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। এই খুনের লাইসেন্স ও জোড়া প্রমোশন ব্যবহার করেই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে সাধারণ ছাত্র-জনতার রক্তে হোলি খেলায় মেতে ওঠে এই নরঘাতক।

    থানার ভেতর ধর্ষণ ও কলম দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার পৈশাচিকতা!

    আলমগীরের অপরাধের খতিয়ান কোনো সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সার্কেলের দায়িত্বে থাকাকালীন খোদ থানার ভেতরেই এক অসহায় নারীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ও চরম ন্যাক্কারজনক অপরাধে লিপ্ত হন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে এই মহাধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ওই ধর্ষিতা নারীর স্বামী লিটন হাসান ইমনকে উল্টো মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে এই লম্পট। এছাড়াও নিরীহ মানুষকে থানায় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চোখ কলম দিয়ে খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার মতো একাধিক মধ্যযুগীয় ও লোমহর্ষক বর্বরতার অভিযোগ রয়েছে এই জল্লাদের বিরুদ্ধে।

    বর্তমান অবস্থান: রংপুর রেঞ্জের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ‘এসপি অ্যাডমিন’

    বিভাগীয় তদন্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চূড়ান্ত রায়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর এবং ছাত্র-জনতা হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার পরও এই নরপিশাচ আলমগীর হোসেন (বিপি নং-৭৯০৬১১১১৪৩) বর্তমানে বহাল তবিয়তে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) হিসেবে বহাল থেকে বীরদর্পে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন!

    বিভাগীয় তদন্তে অপরাধের পাহাড় প্রমাণিত হওয়ার পরও কীভাবে এমন এক প্রমাণিত ধর্ষক, খুনি, অপহরণকারী ও চাঁদাবাজ পুলিশ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে প্রমোশন পেয়ে পুলিশের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের মতো সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে দাপট দেখায়— তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে দেশের আমলারা ও সাধারণ মানুষ। এই নরপিশাচ আলমগীর এবং তার সহযোগী ১ ওসি ও ৪ এসআই-সহ অপরাধী চক্রকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং দেশের আপামর ছাত্র-জনতা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসির উদ্দিন আহমেদ ‘প্রতিবেদক’কে স্পষ্টভাবে জানান-

    “এই অতি গুরুতর অভিযোগের তদন্তভার আমার ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। আমি অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে সমস্ত অপরাধের অকাট্য প্রমাণসহ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর শৃঙ্খলা শাখায় পাঠিয়ে দিয়েছি।”

    এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস)-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এই জল্লাদের আরও ভয়ঙ্কর সব কীর্তি নিয়ে চোখ রাখুন আগামী সংখ্যায়… (চলবে..

  • মির্জাপুরে মহেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়


    মির্জাপুর, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১ নং মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুরের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ইউপি চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর একজন নারীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন।

    ভিডিওর দৃশ্যপটে দেখা যায়, ওই নারী চেয়ারম্যানের অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করছেন। এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে চেয়ারম্যান তার হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে ওই নারী এবং তার সঙ্গে থাকা এক পুরুষকে মারপিট শুরু করেন। চেয়ারম্যানের আঘাতগুলো ছিল মূলত তাদের শরীর এবং মাথার লক্ষ্য করে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    প্রকাশিত ভিডিওতে সহিংস আচরণের দৃশ্য স্পষ্ট হলেও, ঠিক কী কারণে বা কোন ঘটনার জেরে জনপ্রতিনিধি হয়েও চেয়ারম্যান এমন আচরণ করলেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    এ ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একজন জনপ্রতিনিধির এ ধরনের আচরণ কতটা যুক্তিসঙ্গতা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে
    চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুরের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি