Category: অপরাধ

  • টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক কারবারের অভিযোগ

    টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক কারবারের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ভরান হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক কারবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিসহ কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও দেশীয় মদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি ঘর দখল, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে ‘দাবারু’ নামে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি পুনরায় হাজী মাজার বস্তিতে ফিরে আসেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি সহযোগী রবিউল ইসলাম বাবু ওরফে **‘কিং বাবু’**কে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, রবিউল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    এলাকাবাসীর দাবি, হেলেনা নামে এক নারী বস্তির একটি বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে হেরোইন বিক্রি করেন। এছাড়া ডাবলু নামে আরেক ব্যক্তি ওই সিন্ডিকেটকে নিয়মিত অর্থ দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা হিরনের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ কারণে অনেকেই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

    এলাকাবাসী বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকার যুবসমাজ আরও বেশি মাদকের ভয়াবহতার মধ্যে পড়ে যাবে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়বে।

    তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে দাবারু, রবিউল ইসলাম বাবু (কিং বাবু), হেলেনা ও ডাবলুর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

    এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


  • স্টাফ রিপোর্টার:
    ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা সংঘটিত করার সরাসরি অভিযোগ রয়েছে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা এসপি আলমগীর হোসেনের (বিপি নং- ৭৯০৬১১১১৪৩) বিরুদ্ধে। পূর্বতন ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে একের পর এক পৈশাচিক অপরাধের দায়ে সরকারি তদন্তে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এই কর্মকর্তা এখনও বহাল তবিয়তে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

    গণহত্যাকারী ও অপরাধের বরপুত্র হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার এমন অজেয় অবস্থান বর্তমান সরকারের সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    জুলাই গণহত্যার মাঠে ফ্রন্টলাইন শুটার

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন স্বৈরাচারী সরকার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে, তখন ডিএমপির ডিসি (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে নেপথ্যে থেকে দমন-পীড়নের মূল সমন্বয়কারীদের একজন ছিলেন আলমগীর হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি কেবল নির্দেশদাতাই ছিলেন না; বরং স্বহস্তে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে নিয়ে রাজধানী ঢাকাকে রক্তাক্ত করতে ফ্রন্টলাইনে থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন। ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো এক অদৃশ্য খুঁটির জোরে তিনি এখনও পার পেয়ে যাচ্ছেন।

    ধর্ষণ ও চোখ অন্ধ করার বর্বরতা

    অনুসন্ধানে জানা যায়, জুলাই গণহত্যার অনেক আগেই আলমগীর হোসেনের অপরাধের খতিয়ান দীর্ঘ রূপ নিয়েছিল। ২০১১ সালে মৌলভীবাজার জেলায় কর্মরত থাকাকালীন এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, গুমের চেষ্টা এবং রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালান তিনি।

    সবচেয়ে পৈশাচিক ঘটনা ঘটে তাঁর দাপ্তরিক এলাকায়, যেখানে এক নারীকে পাশবিক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই জঘন্যতম অপরাধের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীর স্বামীর চোখে কলম দিয়ে খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালান তিনি।

    এসব চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রতিটি তদন্তেই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং তাঁকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের (Dismissal from Service) আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করা হয়।

    পিএসসি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বরখাস্তের চূড়ান্ত সুপারিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পার পেয়ে যান এই কর্মকর্তা। তৎকালীন প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং বিতর্কিত ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের সমন্বয়ে গঠিত অপরাধী সিন্ডিকেটের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন আলমগীর। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং পুলিশ ক্যাডারের (২৫তম ব্যাচ) কোটার প্রভাব খাটিয়ে তিনি একের পর এক গুরুতর অপরাধ করেও পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন বাগিয়ে নেন।

    ফ্যাসিবাদ পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন এসপি আলমগীর। বর্তমানে তিনি রংপুর রেঞ্জের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগে বীরদর্পে দায়িত্ব পালন করছেন।

    তদন্তে প্রমাণিত একজন ধর্ষক, অপহরণকারী এবং জুলাই গণহত্যার সরাসরি মাঠপর্যায়ের ঘাতক কীভাবে এখনও পুলিশের মতো সংবেদনশীল বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন—তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

    জনসাধারণ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি—পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে এই কুখ্যাত অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

  • গাজীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    গাজীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    স্টাফ রিপোর্টার:

    গাজীপুর জেলা বিআরটিএর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নানা ধরনের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করেন। তবে বিধি-বিধান অনুসরণ করে কাজ করায় এবং অনিয়মে সহযোগিতা না করায় পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এস. এম. মাহফুজুর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক মো. নাসিরুল আরিফিনসহ একাধিক কর্মকর্তার কাছে বিভিন্ন সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারী এবং অন্যান্য সেবাগ্রহীতাদের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুপারিশকৃত কয়েকজন আবেদনকারী নির্ধারিত লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই অথবা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই লাইসেন্স পেতে আগ্রহী ছিলেন।

    কিন্তু বিআরটিএর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়মের বাইরে কোনো সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানান। নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা বা প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের অনুত্তীর্ণ (ফেইল) দেখানো হয়।

    এরপর থেকেই অসন্তুষ্ট একটি পক্ষ ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সংবাদের অধিকাংশই যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।

    সূত্র আরও জানায়, গাজীপুর জেলা বিআরটিএ বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ফলে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের সুযোগ না পেয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সরকারি নিয়মনীতি মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, বরং আবেদনকারীর যোগ্যতা, পরীক্ষার ফলাফল এবং প্রচলিত বিধিমালা অনুসারেই সেবা প্রদান করা হয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না বলেও তারা জানান।

    তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

  • হত্যা মামলার ১০ বছর পর আসামি র‍্যাবের জালে


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ১০ বছর আগে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯।

    র‍্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯-এর সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (১৯শে জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মতিগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানার ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গিয়াস মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

    র‍্যাব সূত্রের বরাতে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার (মামলা নং-০৮, তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬) ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে গিয়াস মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‍্যাব-৯, সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাস, হত্যা, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ দমনে র‍্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থকবে।

  • প্রবাসির স্ত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযুক্ত দু’জন আটক

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বসতঘরে ঢুকে জোরপূর্বক প্রবাসির স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ি ও ইয়াবাখোর যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের আতুয়া গ্রামে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরবেলা।

    আটককৃতরা হচ্ছেন- করমপুর গ্রামের মসুদ আলীর ছেলে জুনেদ আহমদ (২৯) ও আতুয়া গ্রামের ফরিদ আলীর ছেলে নাজির আহমদ (২৮)।

    ভুক্তভোগি গৃহবধু, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার ভোরে প্রতিদিনের মতো প্রবাসির স্ত্রী (গৃহবধু) বসতঘরের দরজা খুলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে চার/পাঁচ যুবক ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধুকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সম্ভ্রম রক্ষায় প্রবাসির স্ত্রী ধস্তাধস্তি ও চিৎকার দিতে থাকেন। একপর্যায়ে স্বজন ও প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে জুনেদ আহমদ ও নাজির আহমদকে আটক করেন। কিন্ত অন্যরা পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা জানান, এরা দু’জনই ইয়াবাখোর ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের অপকর্মে এলাকাবাসি অতিষ্ট। এছাড়া আটকদ্বয়ের একজন বড়লেখা পৌরশহরের হার্ডওয়ার ব্যবসায়ি শশাংক দত্ত অপহরণ মামলার এজাহার নামীয় তিন নম্বর আসামি।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, ভুক্তভোগির চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশিরা ধর্ষণ চেষ্টাকারি দুই যুবককে আটক করে রাখেন। দুপুরে ভুক্তভোগি মহিলা ও তিনি আটককৃতদের থানায় সোপর্দ করেছেন।

    বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) ওবায়দুল হক জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সংবাদে বিএনপিকে গালি, বিতর্কে রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা


    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেন শাহাদত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একটি সংবাদে মন্তব্য করে নিজ দল বিএনপিকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির ফেসবুক পেজে “শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী” শীর্ষক একটি পোস্টের মন্তব্যে মোজাফ্ফর হোসেন আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির সমালোচনা করেন। মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোজাফ্ফর হোসেন মন্তব্যটি নিজের বলে স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, দলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দল তাঁকে মূল্যায়ন করছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের লোকজন তার ব্যবসা ও সম্পত্তি দখল করেছে এবং একাধিক মামলার হুমকি দিয়েছে।

    তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মোজাফ্ফর হোসেনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া বা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে সম্প্রতি বন্যা-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও মোজাফ্ফর হোসেনের বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত দুর্গতদের পরিবর্তে তিনি নিজের আত্মীয়স্বজনের নামে ত্রাণ কার্ড বরাদ্দ দেন। কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মা, চাচা, চাচি ও এক আত্মীয়ের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

    অভিযোগের বিষয়ে মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, তিনি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরই ত্রাণ কার্ড দিয়েছেন। তার দাবি, রিকশাচালক আত্মীয় দীর্ঘদিন কর্মহীন ছিলেন, তাই তাকে সহায়তা করা হয়েছে। দল যদি এটিকে অপরাধ মনে করে, তবে সাংগঠনিকভাবে যে সিদ্ধান্ত নেবে তা তিনি মেনে নেবেন। তবে নিজের মা, চাচা ও চাচিকে ত্রাণ কার্ড দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

    তবে স্থানীয়দের অভিযোগ- মোজাফফর বিগত সরফভাটা ইউনিয়নে যুবলীগের নেতাদের সাথে উঠা বসা ছিল, এমনকি আওয়ামীলীগ আমলে তার নামে কোন মামলা ছিল না, অবাধে ব্যবসা বানিজ্য করে এখন ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচয় দিয়ে দাপটে চলে।

    দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সিকদার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের স্ক্রিনশট তিনি দেখেছেন। তার মতে, একজন দলীয় নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য মোটেও কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জুয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

    চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জুয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শহরে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডও দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

    এমনই একটি অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ডবলমুড়িং থানাধীন হাড্ডি কোম্পানি এলাকার একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত কথিত জুয়ার আসরকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ জুয়া বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দিন-রাত প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ওই স্থানে জুয়ার আসর বসে এবং সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে অংশ নেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয় বলে তাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, এ কারণে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজের একটি অংশ সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারও এ কারণে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

    স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই দাবি করেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার এই আসরকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্নভাবে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হতে হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুবিধার্থে নিয়মিতভাবে ডবলমুড়িং থানার কিছু কর্মকর্তার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে ডবলমুড়িং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ দেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলাম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কাজ করে খাই। সবাইকে দেই।” তবে তিনি “সবাইকে দেই” বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

    আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালিত হলে তা শুধু জুয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর সঙ্গে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

    এলাকার সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তারা ওই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।

  • রাঙ্গুনিয়ায় কবরস্থান দখল ও গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে জমজম জামে মসজিদের কবরস্থান দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মুসল্লি ও সর্বস্তরের জনগণ।

    শনিবার (১৮ জুলাই) আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা কবরস্থান দখলমুক্ত করতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গত ৩০ জুন এক ভূমিদস্যু জোরপূর্বক মসজিদের কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গাছ কেটে ফেলেন। পরে এলাকাবাসী ও পুলিশের উপস্থিতিতে সীমানা পুনঃস্থাপন করা হলেও রাতের অন্ধকারে আবারও সেই সীমানা ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এলাকাবাসীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জমজম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বাচা, হাবিব, জাকের হোসেন, রুবেল, হিরণ, আবু সৈয়দ, কোরবান আলী, জামাল উদ্দিন, বাদশা, রুবেল হোসেন, জাবেদ, আসিফ, টিপু, মাহবুবসহ স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী।

    বক্তারা অবিলম্বে কবরস্থানের জায়গা দখলমুক্ত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মিথ্যা মামলার নামে হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

  • কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে কয়েদি পলায়ন, ৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারী বরখাস্ত


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বন্দী গণনার সময় তাঁর অনুপস্থিতি ধরা পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় মামলা করেছে।

    পালিয়ে যাওয়া কয়েদির নাম রিম্পা (২১)। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।

    আজ শুক্রবার কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারাগার থেকে এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আজ কারা কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে।

    পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নিয়মিত বন্দী গণনার সময় রিম্পাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।
    এ বিষয়ে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার


    ​কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুলিশি অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।

    ​বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের (স্বনির্ভর মোড়) এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

    আটককৃতরা হলেন— চরঝাকালিয়া গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিনের ছেলে ও এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি মো. শামীম মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের মো. আরমান মিয়া (২০)।

    ​অভিযানকালে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের বসত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র, ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    ​কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    উল্লেখ্য, দেশে মাদকের ভয়াবহতা রুখতে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করছে। মাদকের মূল উৎপাটন করতে সরকার কেবল প্রশাসনিক অ্যাকশনই নয়, বরং আইনি কাঠামোকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাদকবিরোধী আইন সংশোধন করে অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কঠোর আইনের ফলে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

    ​অভিযান শেষে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন:
    ​”মাদকের মরণছোবল থেকে আমাদের যুবসমাজ ও সমাজকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদে মাদক আইন সংশোধন করে আরও কঠোর আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে কটিয়াদী থানা পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

    তিনি আরো বলেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে দিতে চাই— কটিয়াদীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারি, গডফাদার কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। হয় মাদক ছাড়তে হবে, না হয় কটিয়াদী ছাড়তে হবে; অন্যথায় লোহার গরাদই হবে তাদের শেষ ঠিকানা। মাদকের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমাদের এই চিরুনি অভিযান অবিরাম চলবে।”