Category: অপরাধ

  • ‎মির্জাপুরে সরকারি রাস্তার কার্পেটিং কাজে অনিয়ম করার অপরাধে শোকজ ‎

    মির্জাপুর, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
    ‎টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগে বিল আটকে দিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন। রবিবার (৫ জুলাই ২৬) তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে লিখিত ভাবে বিল আটকে দেওয়া সহ কাজের তদারকির সাথে জড়িত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীকে লিখিত ভাবে শোকজ করেন।
    ‎
    ‎সরেজমিনে দেখা যায় যে, ঢাকা টাংগাইল মহাসড়ক থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানির ঢলে রাস্তার পুরাতন ড্রেন ওভারফ্লো হয়ে রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে গেছে।
    ‎
    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বৃষ্টির পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ আলগা হয়ে যায়। কোথাও হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে, আবার যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে উঠে আসছে পিচ। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে অনিয়মের কারণেই নতুন সড়কের এমন বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। কাদার উপর সামান্য খোয়া ও বালি দিয়ে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করা হয়েছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেই কার্পেটিং নষ্ট হয়ে গেছে। উক্ত রাস্তার কাজে ৪৬০ মিটার সড়কটির পুনর্নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।
    ‎
    ‎তথ্য মতে জানা যায়, উপজেলার ইউনিয়নের গোড়াই থেকে রাকের টেকি পর্যন্ত সড়কের পুন-র্নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় বৃষ্টিতেই উঠে যেতে শুরু করেছে নতুন পিচ। কোথাও হাত দিলেই উঠে আসছে কার্পেটিং, আবার যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে উঠে যাচ্ছিল পিচ। এতে নতুন সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
    ‎
    ‎অনিয়ম এর বিষয় জানতে পেরে উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন উক্ত সাইট পরিদর্শন করেন এবং ঠিকাদার এর সকল বিল আটকে দেন। এছাড়া উক্ত কাজের তদারকির কাজে নিয়োজিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীকে লিখিত ভাবে শোকজ করেন।
    ‎
    ‎এব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরো জানান যে, ঠিকাদারকে কোনভাবেই কোন বিল প্রদান করা হবেনা এবং উক্ত রাস্তার সম্পূর্ণ কার্পেটিং ঠিকাদারকে করে দিতে হবে। ঠিকাদার কার্পেটিং পুনরায় না করলে তাকে আর্থিকভাবে জরিমানা করা সহ তাকে কালো তালিকা ভুক্ত করা হবে। সরকারি রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও জানান উপজেলা প্রকৌশলী।

  • শ্রীপুরে এক রাতে কৃষকের তিনট‌ি খামার থেকে ৬ গরু চুরি

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের শ্রীপুরে গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে এক রাতে কৃষকের তিনটি খামারে ছয়টি গরু চুরি ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া গরুর মধ্যে রয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভিন গাভী ও একটি ষাঁড়। গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা।

    ভুক্তভোগী কৃষক কবির হোসেন জানান, বুধবার (৮ জুলাই) রাত দেড়টা পর্যন্ত গোয়ালঘরে গিয়ে গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান। ভোররাতে ঘুম ভেঙে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, গেট ও গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তার তিনটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরু চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে কালো ও সাদা রঙের দুটি গাভী গাভিন ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লিটার দুধ দিত। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই দুধ বিক্রি করতেন। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা।

    একই রাতে কৃষক হাদিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি এবং খামারি আজিজুল ইসলামের একটি গাভী চুরি হয়েছে। আজিজুল ইসলাম বলেন, তার চুরি হওয়া গাভীর আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন আগেও একই গ্রামের কাজল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

    শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন কৃষকের তিনটি গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্য দুই ভুক্তভোগী এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, তিনি ছুটিতে থাকলেও সকালে বিষয়টি জেনেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

  • সরকারি অর্থে ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড বস্তাবন্দী পরিত্যক্ত অবস্থায়

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি অর্থে ছাপানো প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বছরের পর বছর মানুষের হাতে না পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডগুলোর ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

    তিনি জানান, ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদানের পর তিনি এসব কার্ডের বিষয়ে অবগত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লেখার পরিবর্তে ট্যাবভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার জন্য কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তথ্যগত ত্রুটি ও কিছু ডুপ্লিকেট কপি থাকায় কার্ডগুলো বিতরণ করা হয়নি।

    তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, যদি কার্ডগুলোতে তথ্যগত ত্রুটি থেকেই থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড কেন ছাপানো হয়েছিল? ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কেন তা সংশোধন করা হয়নি? কেন বিষয়টি যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি? আর কেন বছরের পর বছর কার্ডগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রইল?

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। একদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্ডগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি এর পেছনে আরও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এ কারণে সরকারি অর্থের কতটা ক্ষতি হয়েছে—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

    উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কার্ডগুলো ছাপানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি ঘটে। তিনি বলেন, বর্তমানে কার্ডগুলো অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

  • জামায়াত-শিবির পরিচয়ে মার্কেট দখল, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

    ঢাকা প্রতিনিধি:
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ (নগর প্লাজা) দখল করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে একটি গ্রুপ চাঁদাবাজি ও বিপুল অর্থ আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কেটের একদল দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী। তবে তারা বলেছেন, মার্কেটে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগর প্লাজার নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা।

    ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মো. সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

    তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এরপর থেকে তারা চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করেছে।

  • টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও নারী সহকর্মী হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও নারী সহকর্মী হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    স্টাফ রিপোর্টার:

    গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং নারী সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ এনে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প, ইজারা কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    বক্তাদের অভিযোগ

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বরমী-বরামা-সিংহশ্রী-রায়েদ খেয়াঘাট ইজারা কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ ও টেন্ডার অনিয়ম, জেলা পরিষদের প্রায় ৬২ কোটি টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ গ্রহণ, ঠিকাদারি বিল থেকে ৬ শতাংশ হারে অবৈধ অর্থ আদায় এবং নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

    বক্তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    আগেই দেওয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ

    এর আগে একই অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। গত ১৭ জুন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা তফিজ ওই অভিযোগ দাখিল করেন।

    লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জেলা পরিষদের এফডিআর ভেঙে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অর্থ উত্তোলন, বেয়ারার চেকের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি সম্পত্তি ইজারায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।

    এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তার নাওজোর এলাকার দোকান, ইসলামপুর ভাঙা ব্রিজসংলগ্ন জেলা পরিষদের জমি, কালিয়াকৈর ডাকবাংলা এলাকার কাঠবাজার এবং কাপাসিয়ার বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি বাসভবনে ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই টেন্ডার ছাড়াই ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েকটি খেয়াঘাট ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতাকে বঞ্চিত করে পুনঃপুন দরপত্র আহ্বান, সিডিউল বিক্রয়ে বাধা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

    স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নের স্বার্থে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    এ সময় গাজীপুর জেলা পরিষদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

    উপস্থিত ছিলেন

    মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন আকাশ, সাংবাদিক এইচ. এম. হাকিম, আনজার শাহ, আবুল বাসার মজুমদার, ইসলাম উদ্দিন তালুকদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গোদাগাড়ীতে ১ কেজি ৪০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার

    রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১ কেজি ৪০ গ্রাম অবৈধ মাদকদ্রব্য হেরোইন উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৫। তবে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি ।

    র‍্যাব-৫ জানায়, সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫, সিপিএসসি’র একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী মডেল থানার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রাম থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর চর এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে। তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিল।

    গোপন
    সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একটি বস্তা ফেলে পাশের বিস্তীর্ণ পাটক্ষেতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এতে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    পরে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ফেলে যাওয়া বস্তাটি তল্লাশি করে র‍্যাব। এ সময় বস্তার ভেতরে থাকা ৬টি স্বচ্ছ পলিপ্যাক থেকে মোট ১ কেজি ৪০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে।

    র‍্যাব-৫ আরও জানায়, জব্দকৃত হেরোইন পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোদাগাড়ী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক কারবার দমনে র‍্যাবের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • মুছলেখা না সমঝোতা অষ্টগ্রাম থানায় ইয়াবাসহ যুবক আটক রাতেই মুক্তি এলাকা জুড়ে তোলপাড় ‎ ‎


    ‎
    ‎
    ‎মোঃ আল-আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি:
    ‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় চার পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করার পর একই রাতে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
    ‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুন রাতে অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম দাসপাড়া এলাকা থেকে কাশতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রায় ২৫ বছর বয়সী মো. উজ্জ্বলকে চার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ।
    ‎
    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে থানাকে ম্যানেজ করে ওই যুবকের মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান বলেন, “অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
    ‎
    ‎স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
    ‎
    ‎
    ‎এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান বলেন, “কোনো টাকার বিনিময়ে নয়, মুচলেকা নিয়ে সংশোধনের সুযোগ হিসেবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট এসআই আনিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
    ‎
    ‎তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবক শুধু ইয়াবা সেবনকারী নন, তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। যদিও এ দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো মামলার নথিও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
    ‎
    ‎ঘটনাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

  • সিরাজগঞ্জে বিধবা নারীর ঘরে মসজিদের ইমাম আটক এলাকা জুড়ে সমালোচনার ঝড়


    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় এক নারীর ঘর থেকে একটি মসজিদের ইমামকে আটকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া জামে মসজিদের (টাঙ্গাইলপাড়া) ইমাম মো. সেলিমকে মৃত আল আমিনের স্ত্রী মোছা. শানু বেগমের ঘরে দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে তাঁকে আটক করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এলাকাবাসী ও মসজিদের কয়েকজন মুসল্লির দাবি, মো. সেলিম প্রায় ১০ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এমন ঘটনায় তাঁরা বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, শানু বেগমের স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই ইমাম সেলিমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন আলোচনা চলছিল।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সেলিম বলেন, শানু বেগম “গত প্রায় দেড় মাস ধরে আমার সাথে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে আসছিল। পরে শনিবার রাতে আমি তাঁর বাসায় গেলে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে আটক করেন।”

    অন্যদিকে শানু বেগম বলেন, “আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। আমারা একেঅপরের ভালোবাসি, আমি তাঁকে বিয়ে করতে চাই।”

    এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত নই। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনার চেয়ে
    সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বেশি। তবে এ ঘটনা লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং পুলিশও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

  • রামগড়ে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি আটক

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
    খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া এলাকায় এক মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণির (১৩) পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ওমর ফারুক (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

    ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে মেয়েটি তার নানাবাড়ির রান্নাঘরে একা রান্না-বান্না কাজ করছিল। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিবেশী ওমর ফারুক রান্নাঘরে প্রবেশ করে প্রথমে তাকে কুপ্রস্তাব দেন।

    কুপ্রস্তাব রাজি না হওয়া তিনি জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং টানাহেঁচড়ার করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে । ঘটনা সময় মেয়েটির চিৎকার করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

    ভুক্তভোগীর আত্মীয় মইন জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির মেয়ে সহপাঠী। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর নানি পাশের জলাশয়ে মাছ ধরছিলেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। এ সুযোগে মেয়েটিকে একা পেয়ে চেষ্টা করেন।

    এই ঘটনা শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে রামগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে শনিবার সন্ধ্যায় দিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে । প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান।

  • ফুলবাড়িয়া নগর প্লাজা-২ মার্কেটঃ জামায়াত নেতা সুমন গংদের দখলে

    ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি:
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক বি নগর প্লাজায় কাজ করতে পারছে না জেলা সমবায় কার্যালয় ঢাকার নিয়োগকৃত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি। ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক বি নগর প্লাজা মার্কেটটি এখন যেন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।

    নেই কোনো পরিচালনা কমিটি। যে যার মতো নিজেদের মনে করে ব্যবহার করছে মার্কেটটি। রাজধানীর গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া এলকায় অবস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক-এ সিটি প্লাজা, ব্ল-বি নগর প্লাজা ও ব্লক-সি জাকের সুপার মার্কেট। সিটি প্লাজা ও জাকের সুপার মার্কেট পরিচালিত হয় শ্রম অধিদপ্তরের আওতায় নির্বাচিত কমিটি দ্বারা। মার্কেট দু’টির কমিটি অনেক বছর আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সাধারণ দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা নির্বাচিত কমিটির দাবি জানালেও মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ও বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, ঢাকা এ ব্যাপারে কার্যকরী কোনো ভূমিকা পালন করছে না।

    নগর প্লাজা মার্কেটটি পরিচালিত হয় সমবায় অধিদপ্তর এর আওতায় নগর প্লাজা ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক-বি দোকান মালিক সমবায় সমিতি লি. (রেজি নং ৩০৪ তারিখ-০৩-০৯-১৯৮২) দ্বারা দোকান মালিক সমবায় সমিতির সদস্যদের কোন প্রকার অংশগ্রহণ ছাড়াই আওয়ামী সরকারের প্রভাবে সাজানো নির্বাচনের কমিটি ১৮ বছর ধরে মার্কেটটি পরিচালনা করে আসছে। এ ব‍্যাপারে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বার বার প্রতিবাদ জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

    সমিতির সদস্যদের আবেদন ও আদালতে নির্দেশনা নিষ্পত্তিতে সমবায় আইন অনুযায়ী জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা সমিতির দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে অতি দ্রুত নির্বাচন কার্যক্রম গ্রহণ করে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্বভার হস্তান্তর করার জন্য ৫ সদস্যের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি নিযোগ প্রদান করে। কমিটির সদস্যরা দায়িত্বভার গ্রহণ করার জন্য সমিতির অফিসে গেলে মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটির লোকজন মো. সুমন, হানিফ বাচ্চু, আলমগীর হোসেন, ফারুক হোসেন সরকার, নাছিম, আবুল হাসান, আ. আউয়াল, আলী হোসাইন দেওয়ান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে মারমুখী আচরণ করেন বলে জানা গেছে।

    এ ব্যপারে মেট্রো থানা সমবায় অফিস রমনা, ঢাকায় যোগাযোগ করে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহল আওয়ামী সরকারের গোপন নির্দেশনায় ১৯৮২ সালে গঠিত সমিতির বদলে একটি নতুন সমিতি গঠন করে মার্কেট-সমিতি দখলে রাখার অপচেষ্টা করছে। সাধারণ দোকান মালিকরা বলছেন, ১৯৮২ সালে গঠিত সমিতি থাকা অবস্থায়, কিভাবে জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা আরেকটি সমিতি নিবন্ধন দেয়ার আয়োজন করে। এতে যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

    মার্কেট সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ অতিদ্রুত নির্বাচন কার্যক্রম গ্রহণ করে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্বভার হস্তান্তর করার ব্যাপারে প্রশাসন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা কামনা করছেন সরকার নিয়োজিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দোকান মালিক ব্যবসায়ীরা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরপ্লাজা মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, যে মার্কেটের বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসা বিল, সিকিউরিটি বিল, ময়লা পরিস্কারের বিল উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা কেউ মার্কেটের দোকান মালিক না। তারা আগের কমিটির নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ভাবে অতিরিক্ত বিল আদায় করছে যা এক প্রকার নীরব চাঁদাবাজি।

    আরেকজন দোকান মালিক বলেন, এখন যারা আছেন তারা জোরপূর্বক মার্কেট দখল করে দোকানের সামনে, করিডোরে, ফাঁকা জায়গায় অবৈধভাবে অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে মূল দোকানের মালিকদের ব্যবসার ক্ষতি করছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে নিজেদের জামায়াত নেতা বলে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধমকি দেয়।