Category: অপরাধ

  • সুনিবিড় হাউজিং রেড়িবাঁধ এলাকায় ওএমএসের চাল-আটা বিক্রি না করে ট্রাক নিয়ে পালানোর অভিযোগ

    সুনিবিড় হাউজিং রেড়িবাঁধ এলাকায় ওএমএসের চাল-আটা বিক্রি না করে ট্রাক নিয়ে পালানোর অভিযোগ

    আশরাফুল আলম: রাজধানীর সুনিবিড় হাউজিং রেড়িবাঁধ এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খোলাবাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচির চাল ও আটা নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না করে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিলার ফারুক আলমের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত স্থানে ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির জন্য ট্রাক নিয়ে আসার কথা ছিল ডিলারের। কিন্তু রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যেই ডিলার ফারুক আলম ট্রাকটি নিয়ে ওই স্থান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকারি মূল্যে চাল ও আটা কিনতে আসা নিম্নআয়ের মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি না করে তা কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ডিলার ফারুক আলমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে ফারুক আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদারককারী তাহমিনা আবেদীন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখছি।’ বলে ফোনটি কেটে দেন।

    ওএমএস কর্মসূচির আওতায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। ফলে নির্ধারিত স্থানে পণ্য সরবরাহ ও সঠিকভাবে বিক্রি না হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে দেখা হোক। সরকারি খাদ্যপণ্য নির্ধারিত নিয়মে বিক্রি না করে অনিয়ম বা কালোবাজারির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় মদসহ চার মাদক কারবারি আটক


    টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের হাজমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০ লিটার দেশীয় মদসহ চারজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

    সোমবার (২৭ জুলাই) রাত ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করে।
    কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, অভিযানের সময় হাজমপাড়া এলাকায় সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৭ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

    এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক, তিনটি মোবাইল ফোন, নগদ ১ হাজার ৪৪০ টাকা জব্দ করা হয় এবং চারজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত আলামতসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঘরজামাই স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, মরদেহ উদ্ধার

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিষমডাঙ্গা গ্রামে মোছা. তানিয়া ইসলাম (২০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ নিজ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মো. ছোরয়াব আলীর মেয়ে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর শাহ পরানের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর শাহ পরান শ্বশুরবাড়িতেই ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন।

    নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার (২৭ জুলাই)রাতে শাহ পরান তার স্ত্রী তানিয়াকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। 

    নিহতের ভাই বলেন, “পাঁচ বছর আগে আমার বোন ভালোবেসে শাহ পরানকে বিয়ে করে। বিয়ের পর সে আমাদের বাড়িতেই ঘরজামাই ছিল। গত রাতে আমার বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করে সে পালিয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি তদন্ত শাহ আলম মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে । এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে

  • বিআরটিএ মিরপুর সার্কেল-১-এ দালালচক্রের দাপট, অতিরিক্ত টাকা না দিলে হয়রানির অভিযোগ

    বিআরটিএ মিরপুর সার্কেল-১-এ দালালচক্রের দাপট, অতিরিক্ত টাকা না দিলে হয়রানির অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয় ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, মোটরযান পরিদর্শক খলিল হাসানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত নাজমুলের নেতৃত্বে একটি চক্র বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

    অভিযোগকারীদের দাবি, বিআরটিএর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, গাড়ির পরীক্ষায় অযথা ত্রুটি দেখানো এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

    সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে দালালদের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাদের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। ফলে সরকারি নিয়মে সরাসরি সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কোনো কোনো গাড়িকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ত্রুটি দেখিয়ে ব্যর্থ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফাইল আটকে রেখে গ্রাহকদের দালালদের মাধ্যমে কাজ করাতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

    এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে বিষয়টি জানতে গেলে নাজমুল ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্রের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাদের দাবি, বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    অন্যদিকে, নাজমুলের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলেও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক খলিল হাসান ও নাজমুলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

    সেবাপ্রার্থীদের দাবি, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘুষ, অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

    এখন প্রশ্ন—সাধারণ গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করতে মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১-এর কথিত দালালচক্রের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কবে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে?

  • ময়মনসিংহে কোতোয়ালী মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার


    তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
    ময়মনসিংহ নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ছিনতাই-চুরি দমনে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর ওসি মাহাবুবুল হক-এর সহযোগিতায় এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নগরীর কৃষ্টপুর, চরপাড়া, মাসকান্দা, আকুয়া, বাঘমারা, পুরাতন মেডিকেল গেট, বলাশপুর, কেওয়াটখালী, আনন্দ মোহন কলেজ রোড, মেছুয়া বাজার এবং ময়মনসিংহ রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পারভেজ (২৫), রফিকুল ইসলাম (৩৫), মো. আহাদ (২০), মো. সাগর ওরফে হৃদয় হোসেন (২৩), মো. বাপ্পি (৪৯), মো. আমিরুল (৩৫), মনিরুজ্জামান ওরফে মনির (৩৮), রিপন চন্দ্র দে (৩৪), মো. বিপুল মিয়া (৩০) এবং মো. সবুজ মিয়া (২৫)।

    পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য এবং একাধিক মামলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

    এছাড়া, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দ্রুত কোতোয়ালী মডেল থানাকে অবহিত করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

  • মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা


    কুমিল্লা প্রতিনিধি:
    কুমিল্লার লাকসামে গৃহবধূ টিকটকি মোছা. রায়া আক্তার প্রিয়া সাথী (২৯)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ফাহিম মিয়া লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

    লিখিত অভিযোগে মো. ফাহিম মিয়া উল্লেখ করেন, প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক দক্ষিণ মুদাফরগঞ্জ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা তারেকুল ইসলাম ওরফে অন্তরের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে রায়া আক্তার সাথীর বিরোধ চলে আসছিল। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টির মীমাংসাও করা হয়। সম্প্রতি তিনি মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিহতের বাবা দাবি করেন, গত ২০ জুলাই দুপুরে মেয়ের ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি খবর পান যে, তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, সকাল থেকে দুপুরের কোনো এক সময়ে ওই ঘটনা ঘটে।

    লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত এবং মেয়ের মরদেহের অবস্থান দেখে তার মনে হয়েছে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। পরে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

    মো. ফাহিম মিয়া তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তার দৃঢ় সন্দেহ রয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
    এ বিষয়ে লাকসাম থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার আসামি কারাগারে

    ​রাজশাহী প্রতিনিধি
    ​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে বেআইনি প্রবেশ, চাঁদা দাবি এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে (৩৭)  প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলীকে (৩০) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

    ​আজ ২৭ জুলাই (সোমবার) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ (এমএম-৫) আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে, বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমান আসামী সুরুজ আলীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামীদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

    ​উল্লেখ্য, বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা (মামলা নং-০৬, তারিখ: ০৮/০৩/২০২৬) দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।
    ​পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি ও নৃশংস হামলা হয় সেদিন।

    ​মামলার এজাহার  সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল কাঁচাবাজারস্থ বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১ নম্বর আসামী নূরে ইসলাম মিলন (৪৫) তার মাথায় পিস্তল ঠেকায়।

    ​একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির সময় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলী ধারালো চাকু দিয়ে সভাপতি রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা চালান। আঘাত প্রতিহত করতে গেলে রেজাউল করিমের কোমরের নিচে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার শরীরে ১৩টি সেলাই পড়ে। উক্ত ঘটনায় বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

    ​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারান্তরীণ আসামী সুরুজ আলী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি মূলতঃ একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক কোনো শিক্ষা সনদ না থাকা সত্ত্বেও রাতারাতি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তিনি যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদে রয়েছেন। 

    ​দীর্ঘ তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলের পর আজ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমানের আদালতে আসামিরা হাজির হলে প্রধান হামলাকারী সুরুজ আলীর জামিন নামঞ্জুর করে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

  • টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেফতার


    টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫।র‍্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৫ এর সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত ২৬ জুলাই রাত আনুমানিক ৭টা ৫ মিনিটে টেকনাফ থানাধীন কান্জরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি আবুল কাশেম (৩০)-কে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃত আবুল কাশেম টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নোয়াপাড়া বটতলী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম রশিদ আহমেদ।র‍্যাব জানায়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় আদালত আবুল কাশেমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়িয়ে চলছিলেন।

    পরবর্তীতে র‍্যাব-১৫ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
    র‍্যাব-১৫ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনের পাশাপাশি আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ভালুকায় মানববন্ধনের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে দুলাল শিকদারের সংবাদ সম্মেলন

    ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
    ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও (গৌরীপুর) এলাকায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন দুলাল শিকদার।

    রোববার সকালে উপজেলার সিডস্টোর বাজারের তালুকদার হোটেল অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব দাবি করেন। এ সময় মনির শিকদার, কামরুল শিকদার, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে দুলাল শিকদার বলেন, গত ২২ জুলাই পাড়াগাঁও ও গৌরীপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তাঁকে এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে একতরফা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
    তিনি আরও দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাঁর বয়োবৃদ্ধ দাদা সাহেব আলী শিকদারকে ভুল বুঝিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করছে।

    দুলাল শিকদারের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দাদা সাহেব আলী শিকদার সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে ও স্বেচ্ছায় তাঁর অনুকূলে ১৬১ শতাংশ জমি হেবা দলিল করে দেন। পরবর্তীতে ২৮০ শতাংশ জমির একটি যৌথ দলিলও সম্পন্ন হয়। দলিল সম্পাদনের সময় শামসুল শিকদার, চাচাতো ভাই কামরুল শিকদারসহ অন্যান্য শরিক উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।

    তিনি বলেন, এর আগেও সাহেব আলী শিকদার তাঁর অন্যান্য ছেলে-মেয়ে ও উত্তরাধিকারীদের নামে নিজ ইচ্ছায় একাধিকবার জমির দলিল সম্পাদন করেছেন। একই ধারাবাহিকতায় তাঁর অনুকূলেও আইনানুগভাবে দলিল সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দলিল, সাক্ষী ও অন্যান্য প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে দুলাল শিকদার বলেন, একটি পক্ষ বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর মানববন্ধন, মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
    এ সময় তিনি আদালতে বিচারাধীন বিষয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা এবং ‘গুজব নয়, তথ্যভিত্তিক সত্য’ তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও অনুরোধ জানান।

  • ব্লাকমেইলের অভিযোগের রিসোর্ট “মেঘ মালতী” বদলে “বেলা শেষে”


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার একটি রিসোর্টে অতিথির গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বিতর্কিত সেই রিসোর্টটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

    অভিযোগ উঠেছে, ‘মেঘ মালতি’ নামের ওই রিসোর্টে অবস্থান করা এক যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উল্টো ওই যুবক সঙ্গীদের নিয়ে এসে রিসোর্ট কর্মীদের মারধর ও অর্থ দাবি করেছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে রিসোর্টটির নাম ‘মেঘ মালতি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে।

    ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ৮ই জুলাই মৌলভীবাজারের বাসিন্দা অপূর্ব সূত্রধর নামে এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে ওই রিসোর্টের ১০১ নম্বর রুমে ওঠেন। সেখানে তাঁরা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

    অপূর্ব সূত্রধরের অভিযোগ, রিসোর্ট ত্যাগ করার পর তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়।

    পরদিন ৯ই জুলাই অপূর্ব বেশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে ওই রিসোর্টে যান। সেখানে রিসোর্ট ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে পরে মারামারিতে পরিনত হয়।

    অপূর্বের দাবি, একটি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে ছবি পাঠিয়ে তাঁর কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসলে তিনি টাকা দেননি বলে জানান।

    স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, যে ফোন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল, সেটি জেরিন চা বাগানের ‘নাসির’ নামে এক যুবকের। তিনি ওই রিসোর্টে কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকে নাসির আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

    রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘৯ই জুলাই অপূর্ব এসে একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলের কথা বলেন। আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা এসে আমাদের গালাগাল ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে টাকা দেয়নি বলে স্বীকার করে।’

    রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থাপক জানান, তিনি বাড়িতে থাকার সময় মালিকপক্ষ নামটি পরিবর্তন করেছে।

    এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অপূর্ব সূত্রধর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন পরিবারের আত্মীয় স্বজনরা কথা বলছেন। পূর্বে মিডিয়ার সামনে আমি যা বলার বলেছি। এ নিয়ে আমার আর নতুন করে কিছু বলার মানসিকতা নেই।’ তবে তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তাপস দাশ বলেন, ‘আমরা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছি। অপূর্ব যে ছবিটি দেখিয়েছিলেন, সেটির দেয়ালের রঙের সঙ্গে রিসোর্টের দেয়ালের মিল নেই। ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে।’

    শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন পুলিশ পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি আপসনামার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়। সেখানে কোনো পক্ষ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপূর্ব নামের ওই যুবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন এটি একটি ভুল-বোঝাবুঝি ছিল এবং তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।’ রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও পরিস্কার উল্লেখ করেন তিনি।